বাংলাদেশের ইতিহাস-পর্যালোচনা: ভবিষ্যতের সম্ভাবনার আলোকে

ইতিহাস আর দর্শন চর্চা ছাড়া একটা জাতি কিভাবে মাথা তুলতে পারে? আমাদের কোনো ইতিহাস নেই, অন্তত অতীত কোনো গৌরবময় লিখিত ইতিহাস – এ বিশ্বাস ভাঙতে হবে। যত দিন এই ধারণা আমরা অতিক্রম না করতে পারছি ততদিন হীনমন্যতা কাটছে না। দাসত্ব নিত্যসঙ্গি হচ্ছে। এ অবস্থার বদল দরকার। এই বদল সম্ভব নিত্য ইতিহাস চর্চার মধ্য দিয়ে। ইতিহাস পর্যালোচনা শুরু ১৭৫৭ সাল থেকে। কেন ১৭৫৭ সাল থেকে? তার আগে থেকে নয় কেন? অথবা তার পর থেকেই বা নয় কেন? এই দেশেরই মানুষ মনে করেন ১৭৫৭ সালে আমাদের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ছন্দপতন ঘটে, স্বাভাবিকতা হারায়। আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি একটি উল্লম্ফণ, বিকাশ।

৳ 550.00

Out of stock

Book Details

Language

Binding Type

ISBN

Publishers

Release date

Price

৳550, $18, £13

Pages

Height

8.5

Width

5.6

Weight

About The Author

রইসউদ্দিন আরিফ

রইসউদ্দিন আরিফ-এর জন্ম ১৯৪৩ সালে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়। পড়ালেখা গ্রামের স্কুল, ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজ, ময়মনসিংহ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিছুদিন শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি অতঃপর চাকরি থেকে ইস্তফা। ষাটের দশকে প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু। ’৭০-এ বিপ্লবী সিরাজ সিকদার ও পূর্ববাংলা শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যোগাযোগ। ’৭১-এ পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টিতে যোগদান। ’৭২-এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত স্ত্রী রাশিদা (রানু) ও কোলের শিশুপুত্রসহ সার্বক্ষণিক পার্টিক্যাডার হিসেবে আন্ডারগ্রাউন্ড বিপ্লবী জীবন শুরু। কমরেড সিরাজ সিকদার নিহত হওয়ার পর ১৯৭৬ সালে বিভক্ত সর্বহারা পার্টির অস্থায়ী পরিচালনা কমিটির (অপক) সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৭৭-৭৮ সালে কারাবরণ। কারামুক্তির পর থেকে প্রকাশ্য রাজনীতিচর্চা ও লেখালেখি। বর্তমানে সপরিবারে ঢাকায় বসবাস করছেন। লেখকের প্রকাশিত অনেক গ্রন্থের মধ্যে তিন খন্ডের অখন্ড সংস্করণ আন্ডারগ্রাউন্ড জীবন সমগ্র সর্বমহলে বহুল সমাদৃত।

.. ১৮৫৭ সালে সংঘটিত মহাবিদ্রোহ কি নিছক-ট্র্যাজেডি। না কি শুধুই সিপাহীদের বিদ্রোহ? না কি ভারতবর্ষের মানুষের বিশেষ করে লোকমানুষের সর্বাত্মক বিপ্লব, অতঃপর ভারতের সত্যিকার স্বাধীনতার সংগ্রাম? যদি তা স্বাধীনতার সংগ্রাম হয়ে থাকে তবে ১৭৫৭ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনা কি ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের কষ্টিপাথরে বিচার্য হলো না? প্রকারান্তরে ১৮৫৭ সালেই কি ১৭৫৭ সালের ইতিহাস নির্মাণ হলো না? … ১৯০৫ সালে ঘটে যাওয়া বাংলা বিভক্তি কি ইতিহাসের স্বাভাবিক নিয়মের অনিবার্যতা ছিল? কে দায়ি-হিন্দু, না মুসলমান, না কি খ্রিস্টান ইংরেজ অথবা শাসক শ্রেণী? বাংলা এক থেকে দুই হলো। … দুই বাংলা কি পুনরায় এক হওয়া সম্ভব? এ আকাক্সক্ষাই বা কার? সে শ্রেণী বা সম্প্রদায় সেদিন নিয়ামক ভূমিকা রেখেছিল তার, নাকি ব্রাত্য মানুষের? না কি নৃ-তাত্ত্বিক প্রয়োজনেও? … ১৯৪৭ কি শুধু হিন্দু-মুসলমানের দ্বন্দ্বের ফসল না কি জমিদার ধনিক বণিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে দরিদ্রের সম্পত্তির মালিকানার দাবিতে, বঞ্চনা থেকে মুক্তির লড়াইয়ের তথা আত্মবিকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠার সফল পরিণতি? তা হলো কমিউনিস্টরাই বা বললো কেন ‘ইয়ে আজাদি ঝুটা হ্যায়, লাখো ইনসান ভূখা হ্যায়।’ ভারত বিভক্তির জন্য কে দায়ী ছিল – জিন্নাহ না গান্ধী? মুসলিম লীগ না কংগ্রেস? … ১৯৫২‘র ভাষা আন্দোলন কি আমার বাংলা ভাষা বিকাশে সত্যিকার সহায়ক হয়েছে? জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে সহায়ক হয়েছে? এ দেশের কৃষক সমাজ শুধুই কি উর্দুর বিরুদ্ধে দ্রোহে অংশ নিয়েছিল, না কি কৃষকের সন্তানের এই প্রথম শিক্ষিত মধ্যবিত্ত হওয়ার পথে গুলি চালনা হিসেবে দেখেছিল? ছাত্রের বুকে গুলি চালনাকে সে দেখেছিল তার আপন কলিজায় আঘাত হিসেবে। … ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কতটুকু আমাদের মুক্তির ক্ষেত্রে, আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে, সাম্রাজ্যবাদ ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিত্ব বিকাশে ভূমিকা রাখতে পেয়েছে অথবা পারেনি। … কেনই বা আকাশচুম্বি ব্যক্তিত্ব শেখ মুজিবের মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনের মাথায় নিজ দলের নেতৃত্বের মদদে এমন নির্মম বিদায় সংঘটিত হলো? অথচ লাখ-কোটি মানুষ থাকলো নীরব। … কেনই বা সামান্য সেনা অফিসার হয়েও জিয়াউর রহমান দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর অন্তরাত্মীয় হয়ে উঠল? … এরশাদ বিরোধী লড়াই কতটুকুই বা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াই ছিল? আদৌ কি তা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল, আজকের বাস্তবতা কি সে কথা বলবে? … ফকরুদ্দীন-মইনউদ্দিনের কথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে ৩ মাসের জায়গায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারে এবং অনধিকারচর্চার জন্য তাদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয় না। কেন? … আমরা আশা করি গ্রন্থটি পাঠকের চিন্তাকে উস্কে দেবে। ভাবাতে সক্ষম হবে।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “বাংলাদেশের ইতিহাস-পর্যালোচনা: ভবিষ্যতের সম্ভাবনার আলোকে”

Your email address will not be published. Required fields are marked *