রুপাই বিব্রত মুখে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি এইসময় এখানে?’
‘আপনার কণ্ঠের সুর গতিপথ বদলে দিলো।’
রুপাই গম্ভীর হয়ে গেল। বলল, ‘সুর শুনেই গতিপথ বদলাবেন না, সুবর্ণ সাহেব। হতে পারে তা নিছকই মোহের ষড়যন্ত্র।’
‘মোহের ষড়যন্ত্র যদি মূল্যবান কিছুর সন্ধান দেয়, ক্ষতি কী?’
‘বিবেচনাহীন আকর্ষণ সর্বনাশের কারণ হতে পারে। আপনি গ্রামে নতুন। অনেককিছুই বুঝবেন না।’
কিন্তু এ কথাতেই যেন অনেককিছু বুঝে নিল সুবর্ণ। প্রসঙ্গ বদলাতে বলল, ‘দিঘিটা বেশ সুন্দর, পানি স্বচ্ছ। দিনের আলোয় এখানে কিছুক্ষণ থাকলে মন ভালো হয়ে যাবে, তাই না?’
‘স্বচ্ছ ও সুন্দর সবসময় মন ভালো করা অনুভূতি এনে দেয় না। আলোয় যা মন ভালো করে দেয়, আঁধারে তা বিষাদে ডুবিয়ে দিতেও ছাড়ে না।’
রুপাই দ্রুত বেগে দিঘির পাড় থেকে প্রস্থান করল। সুবর্ণ ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘কিন্তু আঁধারের পরেও যে আলোর মশাল বিদ্যামান।’