আবৃত্তি নিজেকে সুন্দর করতে, বোধে-মননে উন্নত করতে এবং নিজেকে একজন সৃজনশীল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে দারুণ সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
সে বোধ থেকেই প্রকাশিত করা হলো আবৃত্তি অমৃতকথ্য বইটি। এ বইটিতে আবৃত্তি, শুদ্ধ উচ্চারণ ও উপস্থাপনা শেখার জন্য ৪ বছর কোর্সের সিলেবাস সংযোজিত আছে এবং ২০০টি ছড়া ও কবিতা দেয়া আছে যা আবৃত্তির সংগঠন, অনুশীলনকারীগণ ও শিক্ষকগণের জন্য দারুণ সহায়ক হবে।
এসব শিল্প মাধ্যমগুলো শুধু হাতেকলমে শিখিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। অনেকে আবৃত্তি করার সময় ত্রুটিপূর্ণ উচ্চারণ করেন, অহেতুক খুব জোরে শ্বাসাঘাত ও স্বরাঘাত করেন, কেউ কেউ অকারণে খুব জোরে চিৎকার করেন, কেউ ভারী কন্ঠের বাহাদুরি দেখান, তাল-ছন্দ-লয় না জেনে বুঝে করেন, কেউ কেউ আবার শুধুমাত্র নিজের আবেগকে প্রাধান্য দিয়ে সমস্ত ভাব-রসের তোয়াক্কা না করে কেবলমাত্র কণ্ঠনির্ভর আবৃত্তি করেন। এসব কারণে আবৃত্তির দর্শক ও শ্রোতারা বিব্রত বোধ করেন আর আবৃত্তিশিল্পীরা পড়ে যান দারুণ বিপাকে। আমি আশা করি, আবৃত্তি, শুদ্ধ উচ্চারণ ও উপস্থাপনা চর্চার প্রগাঢ়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে কোন বয়সের শিক্ষার্থীদের কাছে এই বইটি দারুণ একটা সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে কাজ করবে আর শিল্পীরা তাদের মধুর বচন বা সঞ্জীবনী কণ্ঠ দ্বারা মোহিত করে মানুষের অর্ন্তদৃষ্টি ও তাদের জীবনবোধ তৈরিতেও সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সহায়তা করবে এ প্রত্যাশা রইলো। জোনাকী প্রকাশনার প্রতি আমৃত্যু কৃতজ্ঞ থাকলাম বইটি প্রকাশ করার জন্য।