“ক্লাসে যখন বাচ্চারা খুব হইচই করে বা নিজেদের মধ্যে কথা বলে, তখন তুমি কী করো? ধমক দাও?” এমনভাবে প্রশ্নটা করল তারিফ, যেন এর উত্তর তার কাছে খুবই গুরুত্ববহুল।
মাহিরা লাজুক হাসি হেসে কম্পিত স্বরে বলল, “মাঝেমধ্যে তো দিতেই হয়।”
তারিফের চোখ দুটো যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে বিস্ময়ে। বাড়িতে যে মেয়েটার গলা দিয়ে স্বর পর্যন্ত বের হয় না সে আবার কলেজে শিক্ষার্থীর চোখ রাঙিয়ে ধমক দেয়? এও কি সম্ভব? দৃশ্যটা কল্পনায় আনতেই তো বেশ কষ্ট হচ্ছে তারিফের।
“তুমি ধমক দিতে পারো? সত্যিই?”
তারিফের চোখে এতটা বিস্ময় দেখে ঘাবড়ে গেল মাহিরা নিজেই। তবে সে কিছু একটা বলার আগেই আবার শোনা গেল তারিফের অদ্ভুত এক আবদার, “আমি যদি এখন তোমার শখের কাচের চুড়িগুলো ভেঙে ফেলি, তাহলে আমার কপালেও কি তাদের মতো ধমক জুটবে?”
মাহিরার ঠোঁটের মাঝে কিঞ্চিৎ ফাঁক। বিভ্রান্ত চোখে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে তারিফের দিকে। মাথায় গণ্ডগোল আছে নাকি এই ছেলের? যেচে পড়ে কে ধমক খেতে চায়? বিয়ের এই সাত দিনে তারিফকে আর যাই হোক, পাগল বলে মনে হয়নি কখনোই।
মাহিরাকে চুপ থাকতে দেখে তারিফ আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে বলল, “ভয় নেই। কথা দিচ্ছি ধমক খেয়েই শহরে যত কাচের চুড়ি আছে, সব তোমার জন্যে আনতে ছুটে যাব।”
নিমিষেই আরক্তিম হয়ে উঠল মাহিরার গাল দুটো। খুঁজে পেল ধমক খেতে চাওয়ার পেছনে তারিফের প্রকৃত উদ্দেশ্যের সন্ধান। সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেল তার গালের লাল আভার গাঢ়ত্ব।