মেডিকেল ছাত্রী লাবণী মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে শিখছিল দেহবিজ্ঞানের কাঠামো, অ্যানাটমি। লাশটা ছিল এক তরুণের। ছুরির ফলা বেয়ে তার আত্মা অভিনব কৌশলে আশ্রয় নেয় এই
শিক্ষার্থীর হৃৎপিণ্ডের রক্তস্রোতে এবং স্নায়ুকোষ, নিউরনেও। মেডিকেল কলেজের অ্যানাটমি ল্যাবে মৃতদেহ শুধু শেখার উপকরণ-এটাই জানে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ওই তরুণের মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের পর তার আত্মা লাবণীর হৃৎপিণ্ডে কেবল আশ্রয়ই নেয়নি, রক্তস্রোতে মিশে ছড়িয়ে পড়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে। স্মৃতি এবং চেতনার সব স্তরসহ দখল করে নেয় পুরো শরীর। তারপর শুরু হয় একের পর এক অদ্ভুত, ভয়াল, অতিপ্রাকৃত ঘটনা। সে বুঝতেই পারেনি বিশেষ ধরনের ছুরি, স্ক্যালপেল শুধু ত্বক নয় আত্মাকেও ছিন্ন করতে পারে।
মৌখিক পরীক্ষার সময় ট্রেতে রাখা মৃতের হৃৎপিণ্ড হাতে নিয়ে স্যারের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েও দ্বিধায় পড়ে যায় লাবণী।
হৃৎপিণ্ডটাকে রীতিমত জীবন্ত মনে হয়। তার চোখে ভেসে ওঠে রক্ত-সংবহনতন্ত্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহমান স্রোতের পুরো চিত্র। শুরু হয়ে যায় অস্বাভাবিক পালস, বিভ্রম, আর অদ্ভুত সব ঘটনা-যার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। তবে এটা কি শরীরে আশ্রয় নেওয়া কোনও অশরীরী অস্তিত্ব?
বাস্তব চিকিৎসাবিজ্ঞানের কাঠামো বা গড়ন আর অতিপ্রাকৃত অজানার সীমারেখায় দাঁড়িয়ে লাবণী ধীরে ধীরে হারাতে থাকে
নিজের সত্তা। তার মধ্যে অশরীরী উপস্থিতি এবং রক্তস্রোতের দখলদারিত্ব, প্রেম, মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন ব্যাপক বিধ্বংসী অবস্থা তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞান, রসায়ন-পদার্থবিদ্যার সূত্র আর সৌরমণ্ডলে আত্মার বিচিত্র ভ্রমণের বিরল ঘটনার টানটান রহস্যের অতিপ্রাকৃত মেডিকেল থ্রিলার-বাংলা সাহিত্যে হিংসা-প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধ পরায়ণতার সম্পূর্ণ ভিন্ন ধাঁচের উপন্যাস 'হৃৎপিণ্ডে অশরীরী রক্তস্রোত'।
মোহিত কামালের এই উপন্যাসের শব্দস্রোতে ভয়ের
গভীরে থাকা মনস্তত্ত্বের সূক্ষ্ম ঢেউ ছড়িয়ে যায় পাঠকের মনে। যেখানে ভয় জন্ম নেয় শরীরের ভেতর আর রহস্য স্পন্দিত হয় হৃদযন্ত্রের প্রতিটি স্পন্দনে।