রাষ্ট্র্র্র পরিচালনায় বিশ্বজুড়ে যত মত আছে, নানা সীমাবদ্ধতার পরেও এখন পর্যন্ত গণতন্ত্রই তুলনামূলকভাবে উত্তমÑএ বিষয়ে আপনি হয়তো দ্বিমত করবেন না। আর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংসদ (এককক্ষ বা দ্বিকক্ষ) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মÑযা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে পারে। সরকারের অপরাপর অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাতে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে, সেরকম আইনি কাঠামো গড়ে তোলার জন্যও সংসদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল সংসদীয় গণতন্ত্রের হাত ধরেই। যদিও বছর কয়েকের মধ্যে সেখানে ছন্দপতন ঘটে। আসে একদলীয় শাসনব্যবস্থা। গুরুত্বহীন হয়ে যায় জাতীয় সংসদ। এরপর একাধিকবার ‘বন্দুকের শাসন’। সেই অবস্থার অবসান হয় ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এবং দেশ নতুন করে সংসদীয় শাসনব্যবস্থার দিকে যাত্রা করে। বস্তুত ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের রাজনীতি ও সংসদীয় ব্যবস্থায় একটা মোটামুটি ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় ছিল। কিন্তু এরপরেই আসে আরেক পরোক্ষ বন্দুকের শাসনÑযেটি ‘ওয়ান ইলেভেন’ বা ‘এক-এগারোর সরকার’ নামে পরিচিত। অফিসিয়ালি তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলেও এটি ছিল মূলত ‘সেনা নিয়ন্ত্রিত সুশীল সরকার’।
এই সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ এবং ওই সংসদেই তারা নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে সংবিধান সংশোধন করে। এর ফলে পরবর্তী তিনটি নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) আওয়ামী লীগ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে করে। যার ফলে প্রতিটি নির্বাচনের পরে তারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনগুলো দেশে-বিদেশে নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। যদিও ২০২৪ সালের নির্বাচনের পরে সরকার গঠন করলেও আওয়ামী লীগ সাত মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাদের পতন হয় ওই বছরেরই ৫ আগস্ট। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকারÑযেটি আগের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। কেননা যখন এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান ছিল না। ফলে তারা ‘স্টেট নেসেসিটি’র আলোকে সংবিধান সমুন্নত রেখেই এরকম একটি আপৎকালীন সরকার গঠন করে।