তিব্বতি এক কিংবদন্তি এই ধারণাটাকে খুব স্পষ্ট করে। বলা হয়, এক শিকারি বরফঢাকা হিমালয়ের শৃঙ্গ পেরিয়ে হরিণের পেছনে ছুটছিল। হঠাৎ সে দেখতে পেল—এক বিশাল পাহাড় দু’ভাগ হয়ে গেছে, মাঝখানে একটা ফাটল; সেই ফাটল দিয়ে ওপাশ দেখা যায়।
ফাটলের পাশে দাঁড়িয়ে লম্বা দাড়িওয়ালা এক বৃদ্ধ শিকারিকে হাত নেড়ে কাছে ডাকল। শিকারি এগিয়ে গিয়ে সেই সরু উল্লম্ব ফাটলে চোখ রাখল—যেটা দিয়ে একজন মানুষ কেবল কষ্ট করে পার হতে পারে।
ওপাশে যা দেখল, শ্বাস আটকে গেল তার। সেখানে এক উর্বর বাগান—রোদে ঝলমল, যেন অনন্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে। গাছে গাছে ফল, শিশুরা হাসছে, প্রাণীরা খেলছে—চারদিকে সৌন্দর্য, শান্তি, প্রাচুর্য।
বৃদ্ধ জিজ্ঞেস করল, “যা দেখছ, ভালো লাগছে?” শিকারি বলল, “অবশ্যই… এটা তো স্বর্গ!” বৃদ্ধ বলল, “হ্যাঁ, স্বর্গই। তুমি এটা খুঁজে পেয়েছ। ভেতরে এসো—এখানে তুমি সুখে থাকতে পারবে।”
খুশিতে ভেসে শিকারি বলল, “আমি আসছি, কিন্তু আগে আমার ভাইদের আর বন্ধুদের নিয়ে আসি। আমি শিগগিরই ফিরে আসব।”
বৃদ্ধ একটু ভ্রু কুঁচকে বলল, “যেমন খুশি। কিন্তু মনে রেখো—শম্ভালার দরজা জীবনে একবারই খোলে।”
“আমি বেশি দেরি করব না,” বলে শিকারি দৌড়ে বেরিয়ে গেল।
সে ফেরার পথে উপত্যকা, নদী, পাহাড় পেরিয়ে গ্রামে গিয়ে দুই ভাই আর তিন শৈশববন্ধুকে সব বলল। সবাই দ্রুত রওনা হলো। সূর্য ডোবার আগেই তারা সেই পাহাড়ে পৌঁছে গেল—যেখান দিয়ে শম্ভালায় ঢোকা যায়।
কিন্তু তখন… পাহাড়ের ফাটল বন্ধ। আর কখনও খুলল না।
যে মানুষ একবার স্বর্গের দরজাটা দেখেছিল, সে সারাজীবন খুঁজেই গেল—কিন্তু আর পেল না।