ফজরের নামাজের পর যখন আকাশে অন্ধকারের মেঘ ভেদ করে আলোর রেখা উঁকিঝুকি মারছিল তখন উজির দানদানকে সুলতান শাহরিয়ারের সাথে বৈঠকে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। সে নিজেকে স্থির রাখতে পারছিল না। উজির দানদান যখন কাপড় পরছিলেন তখন তার পিতৃহৃদয় একটা অজানা আশঙ্কায় বার বার কেঁপে উঠছিল।
সে বিড়বিড় করে বলছিল, 'শাহারজাদ তোমার ভাগ্যের বিষয়ে এখনই মূল সিদ্ধান্ত বোঝা যাবে।' যে রাস্তা দিয়ে সে হেঁটে যাচ্ছিল সেই রাস্তাটা পুরাতন সবুজ পাথরের একটা প্রাসাদের দিকে চলে গিয়েছিল। তার সামনে প্রহরীরা তাকে পাহারা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। একজন লোক হাতে আগুন নিয়ে প্রহরীদেরকে পথ দেখাচ্ছিল। আবহাওয়া ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন আর কনকনে ঠাণ্ডা।
গত তিনটা বছর উজির দানদান ভয় আর আশা, মৃত্যু আর প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে সময় কাটিয়েছে।