রাত নামলে ছেলেকে নিয়ে আমি হাঁটতে বের হই। প্রতি রাতেই যাই। খুব বেশি দূর নয়, বাড়ির আশপাশেই থাকি। আমরা হাঁটি বৃত্তাকার পথে, লিটল গিয়ারিজে আমাদের ১০ নম্বর বাড়িটা থাকে সেই বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দুতে।
একেক রাতে আমরা ঘর থেকে একেক দিকে বের হয়ে পড়ি। এক পথে যাই তো ফিরে আসি অন্য পথে। এতে ক্লান্তি ও একঘেয়েমিÑ দুটোই কম লাগে। কারণ যাওয়ার পথে রাস্তার দুধারে যেসব বাড়িঘর, বড়ো বড়ো জানালা, তাতে ঝুলন্ত পর্দা, সামনের ড্রাইভওয়েতে পার্ক করা গাড়ি, বাগান ও গাছপালা দেখি, ফেরার পথে সেগুলো আবার দেখতে হয় না। তখন দেখি নতুন বাড়ি, নতুন জানালা, নতুন লোকালয়। আর মানুষের সঙ্গে দেখা হলে সেই মুখগুলোও হয় নতুন।
এ কারণে খুব বেশি দূরে না গেলেও, মনে হয়, আমরা অনেক পথ হেঁটেছি।
যখন হাঁটতে বের হই, কোনো কোনো বাড়ির উইন্ডো দিয়ে তখনো সাজানো-গোছানো লিভিং রুমটা দেখা যায়, ভেতরে মৃদু আলো জ্বালানো হয়েছে, কিন্তু তখনো হয়তো পর্দা কিংবা ব্লাইন্ড নামানো হয়নি। বড়ো অদ্ভুত লাগে দেখতে- একেক ঘরে একেক রঙের আলো। একই আলো কিন্তু তার রং আলাদা রকমের। কোনো বাড়িতে সাদা এলএইডি বাতি জ্বলে, এই আলোর রং শিউলি ফুলের পাপড়ির মতো, কোথাও পীত বা হলুদাভ, আবার কোথাও নীল, সেখানে টেলিভিশন চলছে।