কাঁকড়াবিছের এই শহরে' একটি সামাজিক উপন্যাস।
উপন্যাসের স্থানিক পটভূমি ঢাকা শহর। এই উপন্যাসের মুখ্য উপজীব্য হচ্ছে মধ্যবিত্ত জীবনের বহুমাত্রিক সংকট। দ্বন্দ্ব সংঘাতময় নাগরিক জীবনের জটিল বিবর্ণ অবস্থাকে লেখক এই উপন্যাসে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে রূপায়িত করেছেন। তিনি তার জীবন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে মধ্যবিত্ত জীবনের বিচ্ছুরিত দাহ ও দ্রোহকে উন্মোচন করেছেন। তার উপন্যাসের চরিত্রে মনোজগতের উদঘাটন এবং সমাজ ও সময়কে যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তা পাঠকের বোধগম্যের জন্য উপন্যাসের কিয়দংশ তুলে ধরা হল।
'দুপুর থেকে মসজিদের পাশে একটি লাশের খাটিয়া পড়ে থাকতে দেখেছি। লাশের আপাদমস্তক একটি পুরনো চাদরে আবৃত। লাশের আশেপাশে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব কেউ ছিল না। মৃত লোকটির মুখমণ্ডল দেখেনি কেউ। এলাকার লোকের মুখে নানান রকম গুঞ্জন শুনেছি। মৃতের পরিবারের পক্ষ নিয়ে আপনাদের ওপর ক্ষোভ ঝরে পড়ছিল সবার। ওই গলির মুখের চালের দোকানদার জিন্নত আলী ওতো আপনাদের পাঁচতলার ভাড়াটি মহিলাকে বলেছে, মামলা ঠুকে দেন। দেখবেন বাড়িওয়ালার কি হয়।'
'মানুষের জীবন সবসময় একরকম থাকে না। প্রকৃতির মতো জীবনটাও ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায়। এই ঝকঝকে আকাশ। এই তীব্র রোদ। এই মেঘলা আকাশ। আবার এই মুষলধারে বৃষ্টি। কখনো ঝড়। কখনো প্লাবন। প্লাবনে ভেসে যায় মানুষ। নিঃস্ব হয় সব। এমনি সব বিপদ কাটিয়ে তবু মানুষকে বাঁচতে হয়। বাঁচার জন্য লড়াই করতে হয়।'