ত্রিশ বছর আগের একটি জার্নাল। একজন শিল্পী কিনারাহীন তপ্ত মরুভূমির মধ্যে হেঁটে চলেছে অবিরাম। পথের দিক জানা নেই, গন্তব্য জানা নেই । এমন কি কোথায় থামতে হবে তাও জানা নেই। বইটির প্রতিটি বাক্যে কী সাঙ্ঘাতিক যন্ত্রণার চিহ্ন, যেন জীবনের কোনো অচেনা দ্বীপে, কোনো রহস্য উন্মোচনের জন্য মাথা খুঁড়েছে একজন শিল্পী । জীবন এফোড়-ওফোড় করা শূন্যতা আর জ্যোৎস্নার আলোর ভেতরে সাবানের ফেনার মতন জ্যোৎস্না গায়ে মেখে ভ্যান গগের মতো বলেছে— ‘...এ জীবন একদিন ছিল আমারও, আমিও চেয়েছিলাম হতে সোন নদী তীরে, একটি সামান্য সূর্যমুখী ফুল।'
রফি হকের ‘নিভৃত জীবনের ঘ্রাণ' পড়তে পড়তে মনে হয়েছে— আলব্যের কামু'র 'দ্যা আউটসাইডার' বা 'দ্য স্ট্রেঞ্জারের' কথা । নায়ক মারসো তখন খুনোখুনি করে জেলে । ফাঁসির রায় হয়ে গেছে। প্রেমিকা মারিয়ো এসেছে জেলে মারসোর সঙ্গে দেখা করতে।
গারদের এপার থেকে মারসোর প্রশ্ন- 'তুমি কি সত্যিই ভালোবাস এখনও?' গারদের ওপার থেকে মারসোর উত্তর- ‘শব্দটা এখন, এতদিন পর আমার কাছে অর্থহীন..... আসলেও কী তাই?