বর্তমান বইটিতে, যতদূর সম্ভব, আপেক্ষিক তত্ত্বের যথার্থ চিত্রটি তুলে ধরবার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে এবং এটি বিশেষভাবে পরিকল্পিত হয়েছে ঐ শ্রেণির পাঠকদের জন্য, যাঁরা সাধারণ বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে তত্ত্বটির পরিচয় লাভে অত্যুৎসাহী অথচ তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের 'গাণিতিক যন্ত্রে'র সঙ্গে পরিচিত নন। বইয়ের আলোচনা পাঠকের কাছ থেকে আশা করে প্রাক-বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার সমপর্যায়ের জ্ঞান এবং সেই সঙ্গে-বইয়ের স্বল্প কলেবর সত্ত্বেও-যথেষ্ট পরিমাণে ধৈর্য এবং ইচ্ছার জোর। মূল ভাবধারাকে অত্যন্ত সরল এবং সহজবোধ্য করে তুলে ধরবার ব্যাপারে চেষ্টার অন্যথা করা হয়নি এবং মোটামুটিভাবে বিভিন্ন ধারণার উৎসগত পারম্পর্য ও প্রসঙ্গক্রম বজায় রাখা হয়েছে।
সুস্পষ্টতার খাতিরে মাঝে মাঝেই পুনরুক্তির আশ্রয় নেওয়া আমার কাছে অপরিহার্য বলে মনে হয়েছে, যার ফলে বর্ণন-সৌষ্ঠবের দিকে আদৌ নজর দিতে পারিনি। বিবেকের তাড়নায় আমি প্রখ্যাত তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানী এল বোল্টসমানের নীতিই অনুসরণ করেছি, যাঁর মতে সৌষ্ঠবের ব্যাপারটি পোশাক নির্মাতার ও চর্মকারের হাতেই ছেড়ে দেওয়া উচিত। বিষয়টির সহজাত সকল জটিলতা পাঠকের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়েছি এমন দাবি আমি করছি না। তবে অন্যদিকে আমি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই তত্ত্বটির পদার্থবিজ্ঞানগত প্রায়োগিক ভিত্তিসমূহের আলোচনায় 'বিমাতাসুলভ' আচরণ করেছি, যাতে করে পদার্থবিজ্ঞানের সঙ্গে অপরিচিত পাঠকের মনে 'গাছের মাঝে অরণ্যকে হারিয়ে ফেলার' মতো অবস্থার সৃষ্টি না হয়। বইখানা পাঠককে উদ্দীপক কল্পনার মাধ্যমে কিছুটা সময় উপভোগ করতে সাহায্য করবে এমনটাই কামনা করি।