খুব কঠিন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তূপা—কোনােদিন সে বিয়ে করবে না। বেদনাদায়ক একটা কারণ আছে তার। এই পার সঙ্গেই তাদের বাসার সামনে একটা ছেলের দেখা হয় একদিন। তূপাদের বিল্ডিংয়ে খালি একটা ফ্ল্যাট আছে। ভয়াবহ একটা সমস্যা আছে ফ্ল্যাটটাতে। সেই ফ্ল্যাটে নতুন ভাড়াটে হিসেবে এসেছে ছেলেটা।
ছেলেটা আসার পর থেকেই কাকতালীয়ভাবে কেমন যেন পাল্টে যায় তূপা। প্রতিদিন একটা করে চিঠি আসতে থাকে তার ঠিকানায়। ভয় পেয়ে যায় সে। এরকম চিঠি সে এর আগেও পেত, ভয়ঙ্কর চিঠি! কাঁপা কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলে দেখে না, এ চিঠিটা আগের চিঠির মতো না, নাম-ঠিকানাবিহীন অন্যরকম চিঠি, অন্যরকম এক যন্ত্রণার চিঠি!
আরও একটা সমস্যায় পড়ে যায় তূপা। ইদানীং প্রায়ই টের পায় ঘুমালেই তার ঘরে কে যেন আসে, এসে তার চোখ ছুঁয়ে দেয়, ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়, চুল ছুঁয়ে দেয়। নিঘুম কেটে যায় তার অনেক রাত।
এত কিছুর পরেও তূপার নিটোল অনুভবে একদিন ফুটে ওঠে সে প্রেমে পড়েছে, যার প্রেমে পড়েছে সে আর কেউ না, তাদের বিল্ডিংয়ে আসা নতুন ছেলেটার। যে ছেলেটা অন্ধ, দিন-রাত যার কাছে সমান অন্ধকার। পা কি ঠিক করেছে ? সে কি জানে কে এই অন্ধ ছেলেটা ?