"এই যুগের কয়েক শতাব্দীর মধ্যে বাংলার মরমী সাধক ও স্বভাবকবি লালন শাহ্- এ কাজের (কোরানের মর্মকথার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ) জন্য যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন বলিয়া আমরা মনে করি। তাঁহার নিকট হইতে কোরানের ভাষ্য কেহ উদ্ধার করিবার চেষ্টা করিলে তিনি হয়তো পূর্ণাঙ্গ একটি তফসীর বাঙালী জাতিকে দান করিতে পারিতেন” (সুফি দার্শনিক সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী প্রণীত 'কোরান দর্শন' ২য় খণ্ডের পূর্বকথা বা ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত)। বস্তুত মহামতি লালনের সুর- বাণীর ভাষ্য চিন্তাশীল মাত্রকেই প্রভাবিত করে চলেছে। সত্যসন্ধানীর জন্য ফকির লালন জ্যোতির্ময় অফুরন্ত এক প্রবল আকর্ষণ। লালন প্রেমিকদের জন্য সহায়ক গ্রন্থাকারে একটি সহজলভ্য, সুলভ উপস্থাপনার বিবেচনায় বর্তমানে বাজারে দুষ্প্রাপ্য প্রয়াত খোন্দকার রফিউদ্দিন সংকলিত 'ভাব-সঙ্গীত' গ্রন্থটির ৪র্থ সংস্করণ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
লালন ভাষ্যের ভাবধারায় পাঞ্জু শাহ্ এবং অন্যান্য কয়েকজনের নেতৃত্বে একটি লভাব বিস্তারকারী বিশেষ বলয় বা চক্রের (প্রচলিতভাবে হরিশপুর কেন্দ্রিক বলে সমধিক পরিচিত) লোকজীবনে প্রবহমান। আলোচ্য গ্রন্থটির সংকলক প্রাগুক্ত ধারার একজন উল্লেখযোগ্য সংগ্রাহক।