ঝপ করে বেতের চেয়ারটার ওপর বসে পা দুটো সামনে ছড়িয়ে একটা বড় নিশ্বাস ফেললেন রজত। অনেকক্ষণ টানা গাড়ি চালিয়ে এসেছেন, সেই ক্লান্তি। গলার টাইয়ের ফাঁস আলগা করতে করতে বললেন, জানো, আজ হঠাৎ অরুণের সঙ্গে দেখা হল। পাশের ছোট্ট ঘরটার দরজার পাশে বসে মালতী লুচি ভাজছিল। স্টোভের হিস হিস শব্দ, সামান্য অন্ধকারে মালতীর মুখে লাল আভা। গাঢ় নীল রঙের শাড়ি পরেছে বলে সেই অন্ধকার, মালতীর ফরসা মুখ আর স্টোভের লালচে শিখা, সব মিলিয়ে মুখ মানিয়েছে। মুখ না তুলেই মালতী বলল কে অরুণ? অরুণ দাশগুপ্ত? ছুটে শেষ হয়ে গেল এর মধ্যে?
সে নয়, তোমার বন্ধু অরুণ।
আমার আবার কে বন্ধু?
বিয়ের আগে তুমি যাকে চিনতে।
চাকি থেকে গোল লেচি তুলে আলুমিনিয়ামের কড়াইতে গরম ঘিয়ের মধ্যে ছাড়ার সময় ছ্যাঁত করে একটা শব্দ হল।