Skip to Content
রাধা

Price:

360.00 ৳


রাত্রিশেষের গান
রাত্রিশেষের গান
272.00 ৳
340.00 ৳ (20% OFF)
রাধানাথ শিকদারের আত্মকথা ও মূল্যায়ন
রাধানাথ শিকদারের আত্মকথা ও মূল্যায়ন
306.00 ৳
340.00 ৳ (10% OFF)
10% OFF

রাধা

আঠারাে শতকের তৃতীয় দশক তখন শেষ হয়ে আসছে। ভারতবর্ষে মুঘল আমল। সুবে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার রাজধানী মুরশিদাবাদ; একাধারে দেওয়ান ও সুবেদার মতােম উল্ মুল্ক আলাউদ্দৌল্লা জাফর খাঁ নসিরী নাসির জঙ্গ মুরশিদকুলী খাঁ’ তখন বাংলাবিহার উড়িষ্যায় এক অনাস্বাদিতপূর্ব শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপন করে সদ্য বিগত হয়েছেন। বাংলার মনদে তখন সদ্য বসেছেন জাফর খাঁর একমাত্র জামাতা সুজাউদ্দী— মতােম উ মুক সুজাউদ্দীন বাহাদুর আস জঙ্গ’। রাজা সীতারাম রায় থেকে শুরু করে বাংলার সমস্ত জমিদারের সামন্ততান্ত্রিক উদ্ধতপনা বা স্বাধীনতার প্রয়াস দমিত। তাদের ঘােড়ার মত মুখে লাগাম পরিয়ে সুবে বাংলার রথে জুড়ে বাংলার নবাবী তখন জৌলুসের রাত্রির শােভাযাত্রার মত চলেছে। দেশে তখন নিরঙ্কুশ শান্তি—চোরডাকাতেরা দিনের বেলায় সাপের মত লুকিয়েছে, ডাকাত ধরা পড়লে তাকে দুভাগে ভাগ করে চিরে পথের ধারের গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। রাত্রিকালেও পথের ধারে গাছের তলায় ক্লান্ত পথিক নিশ্চিন্ত মনে নিদ্রা যায়। মুরশিদাবাদ শহরে তখন টাকায় পাঁচমণ চাল। খাদ্যসামগ্রীর বাজার-দর বাঁধা। কোন ব্যবসায়ী বাঁধা-দরের উপর দর চড়িয়ে লাভ করতে চেষ্টা করলে ধরা পড়তে দেরি হয় না, তাকে গাধার পিঠে চড়িয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে আনা হয়। সে-আমলের ইতিহাসের কেতাবে পাওয়া যায় যে, মাসে একটাকা আয় হলে একজন লােক দু বেলা পেট পুরে পােলাও-কালিয়া খেতে পারত। ১৭২৬। ২৭ খ্রিস্টাব্দ—মাত্র তিরিশ বছর পর আসছে পলাশীর যুদ্ধ, বাংলার নবাবশাহীর পতন। কিন্তু তখনই সুবে বাংলায় মুসলমান নবাবশাহীর উজ্জ্বলতম জৌলুসের আসর। বােধ করি বেলােয়ারী কাচের ঝাড়লণ্ঠনে সামাদানে বাতিগুলি নেবার আগে শেষবারের মত উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
See More
https://pathakshamabesh.com/web/image/product.template/28135/image_1920?unique=7309d84

360.00 ৳ 360.0 BDT 400.00 ৳

Not Available For Sale

(10% OFF)

This combination does not exist.

আঠারাে শতকের তৃতীয় দশক তখন শেষ হয়ে আসছে। ভারতবর্ষে মুঘল আমল। সুবে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার রাজধানী মুরশিদাবাদ; একাধারে দেওয়ান ও সুবেদার মতােম উল্ মুল্ক আলাউদ্দৌল্লা জাফর খাঁ নসিরী নাসির জঙ্গ মুরশিদকুলী খাঁ’ তখন বাংলাবিহার উড়িষ্যায় এক অনাস্বাদিতপূর্ব শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপন করে সদ্য বিগত হয়েছেন। বাংলার মনদে তখন সদ্য বসেছেন জাফর খাঁর একমাত্র জামাতা সুজাউদ্দী— মতােম উ মুক সুজাউদ্দীন বাহাদুর আস জঙ্গ’। রাজা সীতারাম রায় থেকে শুরু করে বাংলার সমস্ত জমিদারের সামন্ততান্ত্রিক উদ্ধতপনা বা স্বাধীনতার প্রয়াস দমিত। তাদের ঘােড়ার মত মুখে লাগাম পরিয়ে সুবে বাংলার রথে জুড়ে বাংলার নবাবী তখন জৌলুসের রাত্রির শােভাযাত্রার মত চলেছে। দেশে তখন নিরঙ্কুশ শান্তি—চোরডাকাতেরা দিনের বেলায় সাপের মত লুকিয়েছে, ডাকাত ধরা পড়লে তাকে দুভাগে ভাগ করে চিরে পথের ধারের গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। রাত্রিকালেও পথের ধারে গাছের তলায় ক্লান্ত পথিক নিশ্চিন্ত মনে নিদ্রা যায়। মুরশিদাবাদ শহরে তখন টাকায় পাঁচমণ চাল। খাদ্যসামগ্রীর বাজার-দর বাঁধা। কোন ব্যবসায়ী বাঁধা-দরের উপর দর চড়িয়ে লাভ করতে চেষ্টা করলে ধরা পড়তে দেরি হয় না, তাকে গাধার পিঠে চড়িয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে আনা হয়। সে-আমলের ইতিহাসের কেতাবে পাওয়া যায় যে, মাসে একটাকা আয় হলে একজন লােক দু বেলা পেট পুরে পােলাও-কালিয়া খেতে পারত। ১৭২৬। ২৭ খ্রিস্টাব্দ—মাত্র তিরিশ বছর পর আসছে পলাশীর যুদ্ধ, বাংলার নবাবশাহীর পতন। কিন্তু তখনই সুবে বাংলায় মুসলমান নবাবশাহীর উজ্জ্বলতম জৌলুসের আসর। বােধ করি বেলােয়ারী কাচের ঝাড়লণ্ঠনে সামাদানে বাতিগুলি নেবার আগে শেষবারের মত উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (২৩ জুলাই, ১৮৯৮- সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯৭১) বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন। তার সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ৬৫টি উপন্যাস, ৫৩টি গল্পগ্রন্থ, ১২টি নাটক, ৪টি প্রবন্ধের বই, ৪টি আত্মজীবনী, ২টি ভ্রমণ কাহিনী, ১টি কাব্যগ্রন্থ এবং ১টি প্রহসন লিখেছেন। এই বিশিষ্ট সাহিত্যিক রবীন্দ্র পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার,পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। তারাশঙ্কর কংগ্রেসের কর্মী হয়ে সমাজসেবামূলক কাজ করেন এবং এর জন্য তিনি কিছুদিন জেলও খাটেন। একবার তিনি ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্টও হয়েছিলেন। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিধান পরিষদের সদস্য হন। তার লেখায় বিশেষ ভাবে পাওয়া যায় বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের সাঁওতাল, বাগদি, বোষ্টম, বাউরি, ডোম, গ্রাম্য কবিয়াল সম্প্রদায়ের কথা। ছোট বা বড় যে ধরনের মানুষই হোক না কেন, তারাশঙ্কর তার সব লেখায় মানুষের মহত্ত্ব ফুটিয়ে তুলেছেন, যা তার লেখার সবচেয়ে বড় গুণ। সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন চিত্র তার অনেক গল্প ও উপন্যাসের বিষয়। সেখানে আরও আছে গ্রাম জীবনের ভাঙনের কথা, নগর জীবনের বিকাশের কথা।

Title

রাধা

Author

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

Publisher

Mitra & Ghosh Publishers Pvt. Ltd.

Number of Pages

208

Language

Bengali / বাংলা

Category

  • Novel
  • First Published

    APR 2021

    Delivery Charge (Based on Location & Book Weight)

     Inside Dhaka City: Starts from Tk. 70 (Based on book weight)

     Outside Dhaka (Anywhere in Bangladesh): Starts from Tk. 150 (Weight-wise calculation applies)

     International Delivery: Charges vary by country and book weight — will be informed after order confirmation.

     3 Days Happy ReturnChange of mind is not applicable

     Multiple Payment Methods

    Credit/Debit Card, bKash, Rocket, Nagad, and Cash on Delivery also available. 

    আঠারাে শতকের তৃতীয় দশক তখন শেষ হয়ে আসছে। ভারতবর্ষে মুঘল আমল। সুবে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার রাজধানী মুরশিদাবাদ; একাধারে দেওয়ান ও সুবেদার মতােম উল্ মুল্ক আলাউদ্দৌল্লা জাফর খাঁ নসিরী নাসির জঙ্গ মুরশিদকুলী খাঁ’ তখন বাংলাবিহার উড়িষ্যায় এক অনাস্বাদিতপূর্ব শান্তি ও শৃঙ্খলা স্থাপন করে সদ্য বিগত হয়েছেন। বাংলার মনদে তখন সদ্য বসেছেন জাফর খাঁর একমাত্র জামাতা সুজাউদ্দী— মতােম উ মুক সুজাউদ্দীন বাহাদুর আস জঙ্গ’। রাজা সীতারাম রায় থেকে শুরু করে বাংলার সমস্ত জমিদারের সামন্ততান্ত্রিক উদ্ধতপনা বা স্বাধীনতার প্রয়াস দমিত। তাদের ঘােড়ার মত মুখে লাগাম পরিয়ে সুবে বাংলার রথে জুড়ে বাংলার নবাবী তখন জৌলুসের রাত্রির শােভাযাত্রার মত চলেছে। দেশে তখন নিরঙ্কুশ শান্তি—চোরডাকাতেরা দিনের বেলায় সাপের মত লুকিয়েছে, ডাকাত ধরা পড়লে তাকে দুভাগে ভাগ করে চিরে পথের ধারের গাছের ডালে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। রাত্রিকালেও পথের ধারে গাছের তলায় ক্লান্ত পথিক নিশ্চিন্ত মনে নিদ্রা যায়। মুরশিদাবাদ শহরে তখন টাকায় পাঁচমণ চাল। খাদ্যসামগ্রীর বাজার-দর বাঁধা। কোন ব্যবসায়ী বাঁধা-দরের উপর দর চড়িয়ে লাভ করতে চেষ্টা করলে ধরা পড়তে দেরি হয় না, তাকে গাধার পিঠে চড়িয়ে শহরের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে আনা হয়। সে-আমলের ইতিহাসের কেতাবে পাওয়া যায় যে, মাসে একটাকা আয় হলে একজন লােক দু বেলা পেট পুরে পােলাও-কালিয়া খেতে পারত। ১৭২৬। ২৭ খ্রিস্টাব্দ—মাত্র তিরিশ বছর পর আসছে পলাশীর যুদ্ধ, বাংলার নবাবশাহীর পতন। কিন্তু তখনই সুবে বাংলায় মুসলমান নবাবশাহীর উজ্জ্বলতম জৌলুসের আসর। বােধ করি বেলােয়ারী কাচের ঝাড়লণ্ঠনে সামাদানে বাতিগুলি নেবার আগে শেষবারের মত উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
    No Specifications