Skip to Content
অবিভক্ত বাংলা : একটি স্বপ্নের কথা

Price:

306.00 ৳


অবিভক্ত
অবিভক্ত
208.00 ৳
260.00 ৳ (20% OFF)
অবিভক্ত বাংলার পুলিশের ইতিহাস
অবিভক্ত বাংলার পুলিশের ইতিহাস
320.00 ৳
400.00 ৳ (20% OFF)
10% OFF

অবিভক্ত বাংলা : একটি স্বপ্নের কথা

রাজনীতির জগতে আমার নড়াচড়া ৬৫ বছর হয়ে গেলো। বাল্য বয়সে, ভারতের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনের সময়ে (১৯৫৭) “ভোট দেবেন কি সে, কাস্তে ধানের শিষে” - শ্লোগান দিয়ে, কাঁধে লাল ঝাণ্ডা নিয়ে মিছিলে হাঁটার মধ্যে দিয়ে এই যাত্রা শুরু। বাংলার প্রতি ভালোবাসা এবং লালঝাণ্ডা সম্পর্কে শ্রদ্ধা, আমার জন্মসূত্রে পাওয়া। বাংলার প্রতি আবেগ এবং কাঁধের লালঝাণ্ডা, আজও অমলিন আছে। কিন্তু বহু স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে! - ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলন থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনাবলীর আমি সাক্ষী। ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকহাজার বঙ্গবাসীর মৃত্যু; জেলের মধ্যে দলে দলে বিচারাধীন বন্দিকে খুন; হাজার হাজার বন্দিকে বছরের পর বছর কারাবন্দি করে রাখা; সবই “স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ”-র (!) বুকে ঘটতে দেখেছি। কিন্তু একজন শোষক পুঁজিপতিকে কিংবা শোষক ভূস্বামীকে, অর্থাৎ যাদের শোষণ ও অত্যাচার যুগ যুগ ধরে সীমাহীন সংখ্যক মানুষের মৃত্যু আর জীবনযন্ত্রণার কারণ, তাদের কোনও শাসক স্পর্শও করলো না! ঝাণ্ডার রঙে ফারাক থাকলেও, এ'ব্যাপারে শাসকদের মধ্যে কোনও তফাৎ থাকে না। পরবর্তীকালে খেয়াল করলাম: রক্তে ভেজা, ঘামে সিক্ত, শ্রমিক। তথা শ্রমজীবী মানুষ কেউই কখনও 'শাসক' হয় না। বিলেতে বা বিদেশে শিক্ষিত”,উচ্চবর্ণের কিংবা উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদী নেতা- নেত্রীরাই ‘শাসক' হ’ন। ফলে বাংলার জল-কাদা-তেল-কালি, বাঙালি সংস্কৃতি ও জনমানসের সঙ্গে এদের কোনও প্রত্যক্ষ আত্মিক সম্পর্কই নেই। জনসমাজ বাঁচলো কিংবামরলো, তা নিয়ে এঁরা কখনোই গভীরভাবে চিন্তিত হয় না। শোষক রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক ঠাক থাকলো কিনা, সেটা দেখভাল করাই এঁদের 'সাংবিধানিক কর্তব্য'। সেজন্যই রাষ্ট্রের দরকার পাহারাদার সরকার; আর সরকার চালাবার জন্য সংসদীয় দলগুলোর প্রয়োজন আপোষকামী নেতা-নেত্রী। সংসদীয় রাজনীতির সবকিছু সেই হিসেবেই চলে। শাসিত জনগণের স্বার্থ নিয়ে সংসদীয় দলের নেতৃত্বের এবং শাসক মোড়লদের কোনোদিনই মাথাব্যথা থাকে না।
See More
https://pathakshamabesh.com/web/image/product.template/21596/image_1920?unique=639e1d1

306.00 ৳ 306.0 BDT 340.00 ৳

Not Available For Sale

(10% OFF)

This combination does not exist.

রাজনীতির জগতে আমার নড়াচড়া ৬৫ বছর হয়ে গেলো। বাল্য বয়সে, ভারতের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনের সময়ে (১৯৫৭) “ভোট দেবেন কি সে, কাস্তে ধানের শিষে” - শ্লোগান দিয়ে, কাঁধে লাল ঝাণ্ডা নিয়ে মিছিলে হাঁটার মধ্যে দিয়ে এই যাত্রা শুরু। বাংলার প্রতি ভালোবাসা এবং লালঝাণ্ডা সম্পর্কে শ্রদ্ধা, আমার জন্মসূত্রে পাওয়া। বাংলার প্রতি আবেগ এবং কাঁধের লালঝাণ্ডা, আজও অমলিন আছে। কিন্তু বহু স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে! - ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলন থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনাবলীর আমি সাক্ষী। ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকহাজার বঙ্গবাসীর মৃত্যু; জেলের মধ্যে দলে দলে বিচারাধীন বন্দিকে খুন; হাজার হাজার বন্দিকে বছরের পর বছর কারাবন্দি করে রাখা; সবই “স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ”-র (!) বুকে ঘটতে দেখেছি। কিন্তু একজন শোষক পুঁজিপতিকে কিংবা শোষক ভূস্বামীকে, অর্থাৎ যাদের শোষণ ও অত্যাচার যুগ যুগ ধরে সীমাহীন সংখ্যক মানুষের মৃত্যু আর জীবনযন্ত্রণার কারণ, তাদের কোনও শাসক স্পর্শও করলো না! ঝাণ্ডার রঙে ফারাক থাকলেও, এ'ব্যাপারে শাসকদের মধ্যে কোনও তফাৎ থাকে না। পরবর্তীকালে খেয়াল করলাম: রক্তে ভেজা, ঘামে সিক্ত, শ্রমিক। তথা শ্রমজীবী মানুষ কেউই কখনও 'শাসক' হয় না। বিলেতে বা বিদেশে শিক্ষিত”,উচ্চবর্ণের কিংবা উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদী নেতা- নেত্রীরাই ‘শাসক' হ’ন। ফলে বাংলার জল-কাদা-তেল-কালি, বাঙালি সংস্কৃতি ও জনমানসের সঙ্গে এদের কোনও প্রত্যক্ষ আত্মিক সম্পর্কই নেই। জনসমাজ বাঁচলো কিংবামরলো, তা নিয়ে এঁরা কখনোই গভীরভাবে চিন্তিত হয় না। শোষক রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক ঠাক থাকলো কিনা, সেটা দেখভাল করাই এঁদের 'সাংবিধানিক কর্তব্য'। সেজন্যই রাষ্ট্রের দরকার পাহারাদার সরকার; আর সরকার চালাবার জন্য সংসদীয় দলগুলোর প্রয়োজন আপোষকামী নেতা-নেত্রী। সংসদীয় রাজনীতির সবকিছু সেই হিসেবেই চলে। শাসিত জনগণের স্বার্থ নিয়ে সংসদীয় দলের নেতৃত্বের এবং শাসক মোড়লদের কোনোদিনই মাথাব্যথা থাকে না।

দীপক পিপলাই

দীপক পিপলাই জন্ম ১৯৪৮, বেনারস। বাবা-মা সহ পরিবারের ৯ জন ছিলেন ব্রিটিশ আমলে (১৯৩২ - ১৯৪৭) কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সেই পারিবারিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠা। ষাটের দশকে কমিউনিস্ট শিবিরের 'চিন্তা' ও 'ভিত্তি' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। খরা, বন্যা, ভূমিকম্প, বাংলাদেশ-যুদ্ধ ইত্যাদি পরিস্থিতিতে বরাবর সামাজিকভাবে সক্রিয়। নক্সালবাড়ি কৃষক আন্দোলনের সময় থেকে কমিউনিস্ট বিপ্লবী আন্দোলনের সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। ১৯৭৪, বিপ্লবী ছাত্র আন্দোলনের শরিক হিসাবে পুলিশী অত্যাচারের শিকার। দীপক পিপলাই আশির দশকে 'মার্কসবাদের ভিত্তি' পত্রিকার প্রকাশক ও স্বত্বাধিকারী। বিভিন্ন শ্রমিক, কৃষক, হকার, ঝুপড়িবাসী এবং কর্মচারী আন্দোলনের ধারাবাহিক সঙ্গী। সামাজিক-রাজনৈতিক এবং জন-নৃতাত্ত্বিক বিষয়ে প্রকাশিত বহু প্রবন্ধের রচয়িতা। ভারতবর্ষের সংসদবাদী রাজনীতি; আদিবাসী সমাজ; সাম্প্রদায়িকতাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ; অবিভক্ত বাংলার প্রয়োজনীয়তা; ইত্যাদি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ লেখনির বিষয়। কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে জন-নৃতাত্ত্বিক গবেষণাপত্র আলোচিত ও প্রকাশিত। বর্তমানেও সমাজকর্মী হিসাবে মাঠে-ময়দানে সক্রিয়।

Title

অবিভক্ত বাংলা : একটি স্বপ্নের কথা

Author

দীপক পিপলাই

Publisher

Chetona Prokashani, Kolkata

Number of Pages

107

Language

Bengali / বাংলা

Category

  • Research
  • First Published

    SEP 2024

    Delivery Charge (Based on Location & Book Weight)

     Inside Dhaka City: Starts from Tk. 70 (Based on book weight)

     Outside Dhaka (Anywhere in Bangladesh): Starts from Tk. 150 (Weight-wise calculation applies)

     International Delivery: Charges vary by country and book weight — will be informed after order confirmation.

     3 Days Happy ReturnChange of mind is not applicable

     Multiple Payment Methods

    Credit/Debit Card, bKash, Rocket, Nagad, and Cash on Delivery also available. 

    রাজনীতির জগতে আমার নড়াচড়া ৬৫ বছর হয়ে গেলো। বাল্য বয়সে, ভারতের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচনের সময়ে (১৯৫৭) “ভোট দেবেন কি সে, কাস্তে ধানের শিষে” - শ্লোগান দিয়ে, কাঁধে লাল ঝাণ্ডা নিয়ে মিছিলে হাঁটার মধ্যে দিয়ে এই যাত্রা শুরু। বাংলার প্রতি ভালোবাসা এবং লালঝাণ্ডা সম্পর্কে শ্রদ্ধা, আমার জন্মসূত্রে পাওয়া। বাংলার প্রতি আবেগ এবং কাঁধের লালঝাণ্ডা, আজও অমলিন আছে। কিন্তু বহু স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে! - ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলন থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের বুকে ঘটে যাওয়া প্রতিটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক ঘটনাবলীর আমি সাক্ষী। ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকহাজার বঙ্গবাসীর মৃত্যু; জেলের মধ্যে দলে দলে বিচারাধীন বন্দিকে খুন; হাজার হাজার বন্দিকে বছরের পর বছর কারাবন্দি করে রাখা; সবই “স্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ”-র (!) বুকে ঘটতে দেখেছি। কিন্তু একজন শোষক পুঁজিপতিকে কিংবা শোষক ভূস্বামীকে, অর্থাৎ যাদের শোষণ ও অত্যাচার যুগ যুগ ধরে সীমাহীন সংখ্যক মানুষের মৃত্যু আর জীবনযন্ত্রণার কারণ, তাদের কোনও শাসক স্পর্শও করলো না! ঝাণ্ডার রঙে ফারাক থাকলেও, এ'ব্যাপারে শাসকদের মধ্যে কোনও তফাৎ থাকে না। পরবর্তীকালে খেয়াল করলাম: রক্তে ভেজা, ঘামে সিক্ত, শ্রমিক। তথা শ্রমজীবী মানুষ কেউই কখনও 'শাসক' হয় না। বিলেতে বা বিদেশে শিক্ষিত”,উচ্চবর্ণের কিংবা উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ্যবাদী নেতা- নেত্রীরাই ‘শাসক' হ’ন। ফলে বাংলার জল-কাদা-তেল-কালি, বাঙালি সংস্কৃতি ও জনমানসের সঙ্গে এদের কোনও প্রত্যক্ষ আত্মিক সম্পর্কই নেই। জনসমাজ বাঁচলো কিংবামরলো, তা নিয়ে এঁরা কখনোই গভীরভাবে চিন্তিত হয় না। শোষক রাষ্ট্রযন্ত্র ঠিক ঠাক থাকলো কিনা, সেটা দেখভাল করাই এঁদের 'সাংবিধানিক কর্তব্য'। সেজন্যই রাষ্ট্রের দরকার পাহারাদার সরকার; আর সরকার চালাবার জন্য সংসদীয় দলগুলোর প্রয়োজন আপোষকামী নেতা-নেত্রী। সংসদীয় রাজনীতির সবকিছু সেই হিসেবেই চলে। শাসিত জনগণের স্বার্থ নিয়ে সংসদীয় দলের নেতৃত্বের এবং শাসক মোড়লদের কোনোদিনই মাথাব্যথা থাকে না।
    No Specifications