Skip to Content
জীবনস্মৃতির গল্প সম্পর্ক

Price:

196.00 ৳


জীবনস্মৃতি (বিশ্বসাহিত্য ভবন)
জীবনস্মৃতি (বিশ্বসাহিত্য ভবন)
160.00 ৳
200.00 ৳ (20% OFF)
জীবনাননন্দের মায়াবাস্তব
জীবনাননন্দের মায়াবাস্তব
160.00 ৳
200.00 ৳ (20% OFF)
20% OFF

জীবনস্মৃতির গল্প সম্পর্ক

সুদূর শৈশবে যখন আমার মনে প্রেম বা ভালােবাসা নামক অনুভূতির উন্মেষ ঘটেনি তখনও আমি মানুষের আচার-আচরণ, আভাস-ইঙ্গিত আর অঙ্গভঙ্গি দেখে নানা রকম সম্পর্কের ছবি দেখতে পেতাম। হয়ত সেটা অনেকের চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে যেত। কোনাে-কোনাে সম্পর্কের গুরুত্ব আমার মনের মধ্যে এমনভাবে মুদ্রিত হয়ে গেছে যে বহু বছরের ব্যবধানেও মুছে যায়নি বা ক্ষয় হয়নি। ছেলেবেলায় যখন বয়স দশ হবে কি হবে না, আমরা থাকতাম কুমিল্লা শহরের ছােটরা কলােনির কাছে পাইক পুকুরের পূর্ব পাড়ে ভানুমামার বাড়িতে তখনকার কথা। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৬৯-৭০ সাল হবে ভানুমামা পরিবার নিয়ে রাতের অন্ধকারে চলে গেছেন ওপারে, ত্রিপুরায়। এরপর ভানুমামার গুচ্ছবাড়ির কয়েকটা ঘরের যিনি মালিক হয়েছিলেন তিনি মুসলিম এবং ভালাে মানুষ ছিলেন। তাঁর নাম ইমান আলী। একদিন সকাল বেলা দক্ষিণের খালি ঘরটায় নতুন একটি পরিবার এল। ছােট্ট পরিবার। অবিনাশ চন্দ্র দত্ত তাঁর স্ত্রী এবং এক কন্যা চন্দনা। এই তিন জনের সংসার। ভদ্রলােক উত্তরবঙ্গ থেকে বদলি হয়ে এসেছেন কুমিল্লায়। সরকারি কর্মচারী। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব হাসিখুশি অমায়িক ছিলেন। মেয়েটি একটু চঞ্চল ছিল। ফয়জুন্নেছা নাকি শৈলরানী স্কুলে ভর্তি হয়েছিল আজ আর ঠিক মনে নেই। যতখানি মনে পড়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল মেয়েটি। এই গুচ্ছবাড়িতে আমরা সাতটি পরিবার। সাত পরিবারের ছােটবড় সবার সঙ্গে চন্দনার এত ভাব হয়ে গিয়েছিল যে মনে হত আমরা বহুকাল ধরে একসাথে আছি, একটি পরিবারের মতাে বসবাস করছি। চন্দনাদি এমন চঞ্চল যে আমাদের ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছে ওঠা, মাছধরা, পুকুরের এপার-ওপার সাঁতরে যাওয়া, লুডুখেলা, কেরামখেলা, ডাংগুলি খেলায় এগিয়ে ছিল। ওকে হার মানানাে সহজ ছিল না। আবার পড়ালেখায় যেমন ভালাে ছিল ঘরকন্নার কাজেও তাকে অবহেলা করতে দেখিনি কখনাে। গুচ্ছবাড়িটাকে মাতিয়ে রাখত সে।।
See More
https://pathakshamabesh.com/web/image/product.template/34239/image_1920?unique=05ea55f

196.00 ৳ 196.0 BDT 245.00 ৳

Not Available For Sale

(20% OFF)

This combination does not exist.

সুদূর শৈশবে যখন আমার মনে প্রেম বা ভালােবাসা নামক অনুভূতির উন্মেষ ঘটেনি তখনও আমি মানুষের আচার-আচরণ, আভাস-ইঙ্গিত আর অঙ্গভঙ্গি দেখে নানা রকম সম্পর্কের ছবি দেখতে পেতাম। হয়ত সেটা অনেকের চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে যেত। কোনাে-কোনাে সম্পর্কের গুরুত্ব আমার মনের মধ্যে এমনভাবে মুদ্রিত হয়ে গেছে যে বহু বছরের ব্যবধানেও মুছে যায়নি বা ক্ষয় হয়নি। ছেলেবেলায় যখন বয়স দশ হবে কি হবে না, আমরা থাকতাম কুমিল্লা শহরের ছােটরা কলােনির কাছে পাইক পুকুরের পূর্ব পাড়ে ভানুমামার বাড়িতে তখনকার কথা। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৬৯-৭০ সাল হবে ভানুমামা পরিবার নিয়ে রাতের অন্ধকারে চলে গেছেন ওপারে, ত্রিপুরায়। এরপর ভানুমামার গুচ্ছবাড়ির কয়েকটা ঘরের যিনি মালিক হয়েছিলেন তিনি মুসলিম এবং ভালাে মানুষ ছিলেন। তাঁর নাম ইমান আলী। একদিন সকাল বেলা দক্ষিণের খালি ঘরটায় নতুন একটি পরিবার এল। ছােট্ট পরিবার। অবিনাশ চন্দ্র দত্ত তাঁর স্ত্রী এবং এক কন্যা চন্দনা। এই তিন জনের সংসার। ভদ্রলােক উত্তরবঙ্গ থেকে বদলি হয়ে এসেছেন কুমিল্লায়। সরকারি কর্মচারী। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব হাসিখুশি অমায়িক ছিলেন। মেয়েটি একটু চঞ্চল ছিল। ফয়জুন্নেছা নাকি শৈলরানী স্কুলে ভর্তি হয়েছিল আজ আর ঠিক মনে নেই। যতখানি মনে পড়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল মেয়েটি। এই গুচ্ছবাড়িতে আমরা সাতটি পরিবার। সাত পরিবারের ছােটবড় সবার সঙ্গে চন্দনার এত ভাব হয়ে গিয়েছিল যে মনে হত আমরা বহুকাল ধরে একসাথে আছি, একটি পরিবারের মতাে বসবাস করছি। চন্দনাদি এমন চঞ্চল যে আমাদের ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছে ওঠা, মাছধরা, পুকুরের এপার-ওপার সাঁতরে যাওয়া, লুডুখেলা, কেরামখেলা, ডাংগুলি খেলায় এগিয়ে ছিল। ওকে হার মানানাে সহজ ছিল না। আবার পড়ালেখায় যেমন ভালাে ছিল ঘরকন্নার কাজেও তাকে অবহেলা করতে দেখিনি কখনাে। গুচ্ছবাড়িটাকে মাতিয়ে রাখত সে।।

প্রবীর বিকাশ সরকার

প্রবীর বিকাশ সরকার প্রবীর বিকাশ সরকার, জন্মসাল ১৯৫৯। সাহিত্যচর্চার সূচনাসাল ১৯৭৬, কুমিল্লা। ১৯৮৪ সাল থেকে জাপান প্রবাসী। কর্মকাণ্ড: রবীন্দ্র-জাপান সম্পর্ক নিয়ে গবেষণারত। ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ জাপান শাখা গঠনের প্রথম উদ্যোক্তা। সৃজনশীল পাঠচক্র ‘আড্ডা টোকিও'র প্রতিষ্ঠাতা পরিকল্পক। বাংলাদেশ। লেখক-সাংবাদিক ফোরাম, জাপান'-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। জাপান বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব'-এর অন্যতম। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সভাপতি ১৯৯১-২০০২ পর্যন্ত জাপান থেকে প্রকাশিত মাসিক ‘মানচিত্র কাজ সম্পাদক। মাসিক কিশাের সংবাদপত্রের সম্পাদক ইকশন। স্থগিত)। ব্যক্তিগত: কর্মজীবী, বিবাহিত এবং এক কন্যাসন্তানের জনক।

Title

জীবনস্মৃতির গল্প সম্পর্ক

Author

প্রবীর বিকাশ সরকার

Publisher

Anupranan Prokashan

Number of Pages

112

Language

Bengali / বাংলা

Category

  • Story
  • First Published

    FEB 2019

    Delivery Charge (Based on Location & Book Weight)

     Inside Dhaka City: Starts from Tk. 70 (Based on book weight)

     Outside Dhaka (Anywhere in Bangladesh): Starts from Tk. 150 (Weight-wise calculation applies)

     International Delivery: Charges vary by country and book weight — will be informed after order confirmation.

     3 Days Happy ReturnChange of mind is not applicable

     Multiple Payment Methods

    Credit/Debit Card, bKash, Rocket, Nagad, and Cash on Delivery also available. 

    সুদূর শৈশবে যখন আমার মনে প্রেম বা ভালােবাসা নামক অনুভূতির উন্মেষ ঘটেনি তখনও আমি মানুষের আচার-আচরণ, আভাস-ইঙ্গিত আর অঙ্গভঙ্গি দেখে নানা রকম সম্পর্কের ছবি দেখতে পেতাম। হয়ত সেটা অনেকের চোখের দৃষ্টি এড়িয়ে যেত। কোনাে-কোনাে সম্পর্কের গুরুত্ব আমার মনের মধ্যে এমনভাবে মুদ্রিত হয়ে গেছে যে বহু বছরের ব্যবধানেও মুছে যায়নি বা ক্ষয় হয়নি। ছেলেবেলায় যখন বয়স দশ হবে কি হবে না, আমরা থাকতাম কুমিল্লা শহরের ছােটরা কলােনির কাছে পাইক পুকুরের পূর্ব পাড়ে ভানুমামার বাড়িতে তখনকার কথা। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৬৯-৭০ সাল হবে ভানুমামা পরিবার নিয়ে রাতের অন্ধকারে চলে গেছেন ওপারে, ত্রিপুরায়। এরপর ভানুমামার গুচ্ছবাড়ির কয়েকটা ঘরের যিনি মালিক হয়েছিলেন তিনি মুসলিম এবং ভালাে মানুষ ছিলেন। তাঁর নাম ইমান আলী। একদিন সকাল বেলা দক্ষিণের খালি ঘরটায় নতুন একটি পরিবার এল। ছােট্ট পরিবার। অবিনাশ চন্দ্র দত্ত তাঁর স্ত্রী এবং এক কন্যা চন্দনা। এই তিন জনের সংসার। ভদ্রলােক উত্তরবঙ্গ থেকে বদলি হয়ে এসেছেন কুমিল্লায়। সরকারি কর্মচারী। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খুব হাসিখুশি অমায়িক ছিলেন। মেয়েটি একটু চঞ্চল ছিল। ফয়জুন্নেছা নাকি শৈলরানী স্কুলে ভর্তি হয়েছিল আজ আর ঠিক মনে নেই। যতখানি মনে পড়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল মেয়েটি। এই গুচ্ছবাড়িতে আমরা সাতটি পরিবার। সাত পরিবারের ছােটবড় সবার সঙ্গে চন্দনার এত ভাব হয়ে গিয়েছিল যে মনে হত আমরা বহুকাল ধরে একসাথে আছি, একটি পরিবারের মতাে বসবাস করছি। চন্দনাদি এমন চঞ্চল যে আমাদের ছেলেদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাছে ওঠা, মাছধরা, পুকুরের এপার-ওপার সাঁতরে যাওয়া, লুডুখেলা, কেরামখেলা, ডাংগুলি খেলায় এগিয়ে ছিল। ওকে হার মানানাে সহজ ছিল না। আবার পড়ালেখায় যেমন ভালাে ছিল ঘরকন্নার কাজেও তাকে অবহেলা করতে দেখিনি কখনাে। গুচ্ছবাড়িটাকে মাতিয়ে রাখত সে।।
    No Specifications