Skip to Content
Mind Engineering

Price:

392.00 ৳


আত্মদর্শন
আত্মদর্শন
636.00 ৳
795.00 ৳ (20% OFF)
Dhaka From City to Megacity
Dhaka From City to Megacity
1,196.00 ৳
1,495.00 ৳ (20% OFF)

Mind Engineering

দর্শন ও ধর্ম বিশ্বাসে হৃদয়ের পরিচয়_x000D_ আমি কে, কোথা থেকে এলাম, কী আমার আত্মার পরিচয়Ñএসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে পেতে জ্ঞানী, গুণী, ঋষি আর সাধকগণ তপস্যা করে চলেছেন সেই প্রাচীন কাল থেকে। তাঁদের মতে, আপাত ক্ষুদ্র এই প্রশ্নটির মাঝেই গুপ্তধনের মতো সুপ্ত হয়ে লুকিয়ে রয়েছে মহাবিশ্বের সব অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান, আর তাই প্রশ্নটি নিতান্ত কোনো সহজ আর হেলাফেলার নয়। ব¯‘ত, এমন প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি সত্যিই এই জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন যথাসম্ভব সবটুকু প্রচেষ্টা দিয়ে। মানুষের জীবনে যদি একটিমাত্র মৌলিক প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে তা এই প্রশ্নটিই। ব¯‘ত, আপন সত্তা সম্পর্কে এমন মৌলিক প্রশ্নের উত্তর আপনি অন্য কারও থেকে শিখে নিতে বা জেনে নিতে পারবেন না, বরং তা নিজেকেই উদ্ধার করতে হবে। ফুসফুসে অক্সিজেন নেওয়ার কাজটি যেমন একান্তই আপনার, তেমনি ‘আমি কে’ এই প্রশ্নের উত্তর কঠোর অধ্যবসায় ও নিমগ্ন জ্ঞানসাধনা বলে কেবল নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। নিজেকে জানার পথে, আপন সত্তার প্রকৃত পরিচয় উপলব্ধির জগতে আপনার জন্য এটি একটি একান্ত ব্যক্তিগত ভ্রমণ।_x000D_ _x000D_ ইসলাম ধর্মের মতে শারীরিক নয়, বরং আত্মিক মানুষই মানুষের পরিচয়; তবে প্রতিটি মানুষের মন বা আত্মার দুটি অংশ রয়েছে, যার একটি নফস আর অন্যটি রুহ। নফস মানব দেহের নানা ই”েছ, অনুভূতি, আকাক্সক্ষা আর শারীরবৃত্তীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত, তাই শরীরের প্রয়োজনগুলোই নফসের চালিকাশক্তি। অন্যদিকে প্রতিটি মানুষের মাঝে উপ¯ি’ত রুহ হলো মহান স্রষ্টার স্বর্গীয় সৃষ্টি, যা শরীরের ওপর নির্ভর করে পৃথিবীতে শুধু পরিভ্রমণ করে চলেছে। শারীরিকভাবে জন্মগ্রহণের বহু পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছে অবিনশ্বর প্রতিটি রুহ এবং ক্রমান্বয়ে এক একটি মানব শরীরের মাধ্যমে তা দুনিয়াতে অবতরণ করে চলেছে। মুসলিমগণের বিশ্বাস, জগতে রুহগুলোকে এ কারণেই প্রেরণ করা হয়, যেন তারা স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে আর মহান স্রষ্টা সেই রুহগুলোকে আনুগত্যের পরীক্ষায় মূল্যায়ন করে উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করতে পারেন। এই ধর্ম মতে, রুহসমূহ জগতে একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেহের ওপর অব¯’ান করে নিজ নিজ পরীক্ষা শেষে পরকালে পৌঁছে জান্নাতের আকাক্সক্ষায় এক মহাবিচার দিনের অপেক্ষা করতে থাকে।_x000D_ _x000D_ খ্রিস্টধর্মের ব্যাখ্যায় আত্মাকে বলা হয়েছে, শারীরিক কাঠামোর বাইরে মহান স্রষ্টার স্বরূপ নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়া স্রষ্টারই অবিনশ্বর অংশ, তাই আত্মাই মানুষের চেতনা ও নৈতিকতার পটভূমি। খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসীরা বলেন, প্রতিটি মানুষের আত্মা আদি পাপ নিয়ে পৃথিবীতে আসে এবং কেবল যিশুখ্রিস্টকে বিশ্বাস করার মধ্য দিয়েই তারা সেই পাপ মুক্ত হয়ে স্রষ্টার সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার উপযুক্ত হয়। এই বিশ্বাস মতে, সকল আত্মা এক মহাবিচার দিনের মুখোমুখি হবে এবং সেদিন বিশ্বাস ও কর্মের বিচারে জান্নাত কিংবা জাহান্নামে ঠিকানা হবে তাদের।_x000D_ _x000D_ হিন্দুশাস্ত্র মতে, আত্মা বিধাতার এক অবিনশ্বর অংশ, যা পৃথিবীতে এসে নানা প্রাণের মাঝে ঘুরেফিরে চলেছে মুক্তির প্রত্যাশায়। এই বিশ্বাস মতে, প্রতিটি প্রাণ তা হোক মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী অথবা উদ্ভিদ, সকলের মাঝেই রয়েছে সর্বজনীন আত্মা এবং সেসব আত্মা নানা বেশে নানা প্রাণের মাঝে বিচরণ করে চলেছে জন্ম ও মৃত্যুর চক্রে। এই বিশ্বাস মতে, সকল জীবের আত্মা একই স্বরূপ নিয়ে গঠিত, তাই তারা ঘুরেফিরে ভ্রমণ করে চলেছে কখনো মানুষের দেহে, কখনো কোনো গাছের কাণ্ডে আবার কখনো কোনো মাছের বা অন্য কোনো প্রাণীর জীবনে।_x000D_ _x000D_ বৌদ্ধমতে, ‘আত্মা’ কোনো চির¯’ায়ী, অপরিবর্তনীয় সত্তার অস্তিত্ব নয়। বৌদ্ধ দর্শনে ‘অনাত্মা’ বা ‘নিরাত্মকতা’ ধারণায় বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস মতে, ব্যক্তিগত সত্তা একটি সাময়িক ও পরিবর্তনশীল উপাদানের সমষ্টি যেখানে এখানে ‘অনাত্মা’ ধারণাটিই মূলভিত্তি। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো ¯’ায়ী কিংবা স্বাধীন আত্মা বলে কিছু নেই, যা কোনো ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্বের কেন্দ্রে অব¯’ান করে। বৌদ্ধমতে, ব্যক্তি বা ‘আমি’ আসলে পঞ্চস্কন্ধের (রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান) সমন্বয়। এই মতে সবকিছুই অনিত্য, অর্থাৎ পরিবর্তনশীল। ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্ব কোনো একক আত্মার ওপর নির্ভর করে না বরং, এটি কার্যকারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। এই মতে নির্বাণ হলো চূড়ান্ত মুক্তি, যেখানে লিপ্সা (তৃষ্ণা), দ্বেষ এবং মোহের সমাপ্তি ঘটে। নির্বাণ কোনো চির¯’ায়ী আত্মার অব¯’ানে পৌঁছানো নয়, বরং দুঃখের সমাপ্তি। বুদ্ধ বলেননি যে আত্মা ধ্বংস হয়; তিনি বলেছেন আত্মার অস্তিত্বই নেই। এই দর্শনে আত্মার ধারণার অনুপ¯ি’তি সত্ত্বেও নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং কর্মের ধারণা রয়েছে। এক জীবনের কর্ম অন্য জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে তা কোনো চির¯’ায়ী আত্মার মাধ্যমে নয়, বরং কারণ এবং ফলাফলের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ঘটে। বৌদ্ধমতে, পুনর্জন্ম একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে এক জীবনের কর্ম অন্য জীবনে ফলাফল বয়ে আনে।
See More
https://pathakshamabesh.com/web/image/product.template/51529/image_1920?unique=0c38bcb

392.00 ৳ 392.0 BDT 490.00 ৳

Not Available For Sale

(20% OFF)

This combination does not exist.

দর্শন ও ধর্ম বিশ্বাসে হৃদয়ের পরিচয়_x000D_ আমি কে, কোথা থেকে এলাম, কী আমার আত্মার পরিচয়Ñএসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে পেতে জ্ঞানী, গুণী, ঋষি আর সাধকগণ তপস্যা করে চলেছেন সেই প্রাচীন কাল থেকে। তাঁদের মতে, আপাত ক্ষুদ্র এই প্রশ্নটির মাঝেই গুপ্তধনের মতো সুপ্ত হয়ে লুকিয়ে রয়েছে মহাবিশ্বের সব অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান, আর তাই প্রশ্নটি নিতান্ত কোনো সহজ আর হেলাফেলার নয়। ব¯‘ত, এমন প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি সত্যিই এই জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন যথাসম্ভব সবটুকু প্রচেষ্টা দিয়ে। মানুষের জীবনে যদি একটিমাত্র মৌলিক প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে তা এই প্রশ্নটিই। ব¯‘ত, আপন সত্তা সম্পর্কে এমন মৌলিক প্রশ্নের উত্তর আপনি অন্য কারও থেকে শিখে নিতে বা জেনে নিতে পারবেন না, বরং তা নিজেকেই উদ্ধার করতে হবে। ফুসফুসে অক্সিজেন নেওয়ার কাজটি যেমন একান্তই আপনার, তেমনি ‘আমি কে’ এই প্রশ্নের উত্তর কঠোর অধ্যবসায় ও নিমগ্ন জ্ঞানসাধনা বলে কেবল নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। নিজেকে জানার পথে, আপন সত্তার প্রকৃত পরিচয় উপলব্ধির জগতে আপনার জন্য এটি একটি একান্ত ব্যক্তিগত ভ্রমণ।_x000D_ _x000D_ ইসলাম ধর্মের মতে শারীরিক নয়, বরং আত্মিক মানুষই মানুষের পরিচয়; তবে প্রতিটি মানুষের মন বা আত্মার দুটি অংশ রয়েছে, যার একটি নফস আর অন্যটি রুহ। নফস মানব দেহের নানা ই”েছ, অনুভূতি, আকাক্সক্ষা আর শারীরবৃত্তীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত, তাই শরীরের প্রয়োজনগুলোই নফসের চালিকাশক্তি। অন্যদিকে প্রতিটি মানুষের মাঝে উপ¯ি’ত রুহ হলো মহান স্রষ্টার স্বর্গীয় সৃষ্টি, যা শরীরের ওপর নির্ভর করে পৃথিবীতে শুধু পরিভ্রমণ করে চলেছে। শারীরিকভাবে জন্মগ্রহণের বহু পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছে অবিনশ্বর প্রতিটি রুহ এবং ক্রমান্বয়ে এক একটি মানব শরীরের মাধ্যমে তা দুনিয়াতে অবতরণ করে চলেছে। মুসলিমগণের বিশ্বাস, জগতে রুহগুলোকে এ কারণেই প্রেরণ করা হয়, যেন তারা স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে আর মহান স্রষ্টা সেই রুহগুলোকে আনুগত্যের পরীক্ষায় মূল্যায়ন করে উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করতে পারেন। এই ধর্ম মতে, রুহসমূহ জগতে একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেহের ওপর অব¯’ান করে নিজ নিজ পরীক্ষা শেষে পরকালে পৌঁছে জান্নাতের আকাক্সক্ষায় এক মহাবিচার দিনের অপেক্ষা করতে থাকে।_x000D_ _x000D_ খ্রিস্টধর্মের ব্যাখ্যায় আত্মাকে বলা হয়েছে, শারীরিক কাঠামোর বাইরে মহান স্রষ্টার স্বরূপ নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়া স্রষ্টারই অবিনশ্বর অংশ, তাই আত্মাই মানুষের চেতনা ও নৈতিকতার পটভূমি। খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসীরা বলেন, প্রতিটি মানুষের আত্মা আদি পাপ নিয়ে পৃথিবীতে আসে এবং কেবল যিশুখ্রিস্টকে বিশ্বাস করার মধ্য দিয়েই তারা সেই পাপ মুক্ত হয়ে স্রষ্টার সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার উপযুক্ত হয়। এই বিশ্বাস মতে, সকল আত্মা এক মহাবিচার দিনের মুখোমুখি হবে এবং সেদিন বিশ্বাস ও কর্মের বিচারে জান্নাত কিংবা জাহান্নামে ঠিকানা হবে তাদের।_x000D_ _x000D_ হিন্দুশাস্ত্র মতে, আত্মা বিধাতার এক অবিনশ্বর অংশ, যা পৃথিবীতে এসে নানা প্রাণের মাঝে ঘুরেফিরে চলেছে মুক্তির প্রত্যাশায়। এই বিশ্বাস মতে, প্রতিটি প্রাণ তা হোক মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী অথবা উদ্ভিদ, সকলের মাঝেই রয়েছে সর্বজনীন আত্মা এবং সেসব আত্মা নানা বেশে নানা প্রাণের মাঝে বিচরণ করে চলেছে জন্ম ও মৃত্যুর চক্রে। এই বিশ্বাস মতে, সকল জীবের আত্মা একই স্বরূপ নিয়ে গঠিত, তাই তারা ঘুরেফিরে ভ্রমণ করে চলেছে কখনো মানুষের দেহে, কখনো কোনো গাছের কাণ্ডে আবার কখনো কোনো মাছের বা অন্য কোনো প্রাণীর জীবনে।_x000D_ _x000D_ বৌদ্ধমতে, ‘আত্মা’ কোনো চির¯’ায়ী, অপরিবর্তনীয় সত্তার অস্তিত্ব নয়। বৌদ্ধ দর্শনে ‘অনাত্মা’ বা ‘নিরাত্মকতা’ ধারণায় বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস মতে, ব্যক্তিগত সত্তা একটি সাময়িক ও পরিবর্তনশীল উপাদানের সমষ্টি যেখানে এখানে ‘অনাত্মা’ ধারণাটিই মূলভিত্তি। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো ¯’ায়ী কিংবা স্বাধীন আত্মা বলে কিছু নেই, যা কোনো ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্বের কেন্দ্রে অব¯’ান করে। বৌদ্ধমতে, ব্যক্তি বা ‘আমি’ আসলে পঞ্চস্কন্ধের (রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান) সমন্বয়। এই মতে সবকিছুই অনিত্য, অর্থাৎ পরিবর্তনশীল। ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্ব কোনো একক আত্মার ওপর নির্ভর করে না বরং, এটি কার্যকারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। এই মতে নির্বাণ হলো চূড়ান্ত মুক্তি, যেখানে লিপ্সা (তৃষ্ণা), দ্বেষ এবং মোহের সমাপ্তি ঘটে। নির্বাণ কোনো চির¯’ায়ী আত্মার অব¯’ানে পৌঁছানো নয়, বরং দুঃখের সমাপ্তি। বুদ্ধ বলেননি যে আত্মা ধ্বংস হয়; তিনি বলেছেন আত্মার অস্তিত্বই নেই। এই দর্শনে আত্মার ধারণার অনুপ¯ি’তি সত্ত্বেও নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং কর্মের ধারণা রয়েছে। এক জীবনের কর্ম অন্য জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে তা কোনো চির¯’ায়ী আত্মার মাধ্যমে নয়, বরং কারণ এবং ফলাফলের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ঘটে। বৌদ্ধমতে, পুনর্জন্ম একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে এক জীবনের কর্ম অন্য জীবনে ফলাফল বয়ে আনে।

Title

Mind Engineering

Publisher

Matrivasha Prokash

Number of Pages

239

Language

Bengali / বাংলা

Category

  • Psychology
  • First Published

    APR 2025

    Delivery Charge (Based on Location & Book Weight)

     Inside Dhaka City: Starts from Tk. 70 (Based on book weight)

     Outside Dhaka (Anywhere in Bangladesh): Starts from Tk. 150 (Weight-wise calculation applies)

     International Delivery: Charges vary by country and book weight — will be informed after order confirmation.

     3 Days Happy ReturnChange of mind is not applicable

     Multiple Payment Methods

    Credit/Debit Card, bKash, Rocket, Nagad, and Cash on Delivery also available. 

    দর্শন ও ধর্ম বিশ্বাসে হৃদয়ের পরিচয়_x000D_ আমি কে, কোথা থেকে এলাম, কী আমার আত্মার পরিচয়Ñএসব প্রশ্নের জবাব খুঁজে পেতে জ্ঞানী, গুণী, ঋষি আর সাধকগণ তপস্যা করে চলেছেন সেই প্রাচীন কাল থেকে। তাঁদের মতে, আপাত ক্ষুদ্র এই প্রশ্নটির মাঝেই গুপ্তধনের মতো সুপ্ত হয়ে লুকিয়ে রয়েছে মহাবিশ্বের সব অমীমাংসিত প্রশ্নের সমাধান, আর তাই প্রশ্নটি নিতান্ত কোনো সহজ আর হেলাফেলার নয়। ব¯‘ত, এমন প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে যে, আপনি সত্যিই এই জটিল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছেন যথাসম্ভব সবটুকু প্রচেষ্টা দিয়ে। মানুষের জীবনে যদি একটিমাত্র মৌলিক প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে তা এই প্রশ্নটিই। ব¯‘ত, আপন সত্তা সম্পর্কে এমন মৌলিক প্রশ্নের উত্তর আপনি অন্য কারও থেকে শিখে নিতে বা জেনে নিতে পারবেন না, বরং তা নিজেকেই উদ্ধার করতে হবে। ফুসফুসে অক্সিজেন নেওয়ার কাজটি যেমন একান্তই আপনার, তেমনি ‘আমি কে’ এই প্রশ্নের উত্তর কঠোর অধ্যবসায় ও নিমগ্ন জ্ঞানসাধনা বলে কেবল নিজেই উপলব্ধি করতে পারবেন। নিজেকে জানার পথে, আপন সত্তার প্রকৃত পরিচয় উপলব্ধির জগতে আপনার জন্য এটি একটি একান্ত ব্যক্তিগত ভ্রমণ।_x000D_ _x000D_ ইসলাম ধর্মের মতে শারীরিক নয়, বরং আত্মিক মানুষই মানুষের পরিচয়; তবে প্রতিটি মানুষের মন বা আত্মার দুটি অংশ রয়েছে, যার একটি নফস আর অন্যটি রুহ। নফস মানব দেহের নানা ই”েছ, অনুভূতি, আকাক্সক্ষা আর শারীরবৃত্তীয় বিষয়ের সাথে যুক্ত, তাই শরীরের প্রয়োজনগুলোই নফসের চালিকাশক্তি। অন্যদিকে প্রতিটি মানুষের মাঝে উপ¯ি’ত রুহ হলো মহান স্রষ্টার স্বর্গীয় সৃষ্টি, যা শরীরের ওপর নির্ভর করে পৃথিবীতে শুধু পরিভ্রমণ করে চলেছে। শারীরিকভাবে জন্মগ্রহণের বহু পূর্বেই সৃষ্টি হয়েছে অবিনশ্বর প্রতিটি রুহ এবং ক্রমান্বয়ে এক একটি মানব শরীরের মাধ্যমে তা দুনিয়াতে অবতরণ করে চলেছে। মুসলিমগণের বিশ্বাস, জগতে রুহগুলোকে এ কারণেই প্রেরণ করা হয়, যেন তারা স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে পারে আর মহান স্রষ্টা সেই রুহগুলোকে আনুগত্যের পরীক্ষায় মূল্যায়ন করে উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করতে পারেন। এই ধর্ম মতে, রুহসমূহ জগতে একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেহের ওপর অব¯’ান করে নিজ নিজ পরীক্ষা শেষে পরকালে পৌঁছে জান্নাতের আকাক্সক্ষায় এক মহাবিচার দিনের অপেক্ষা করতে থাকে।_x000D_ _x000D_ খ্রিস্টধর্মের ব্যাখ্যায় আত্মাকে বলা হয়েছে, শারীরিক কাঠামোর বাইরে মহান স্রষ্টার স্বরূপ নিয়ে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়া স্রষ্টারই অবিনশ্বর অংশ, তাই আত্মাই মানুষের চেতনা ও নৈতিকতার পটভূমি। খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসীরা বলেন, প্রতিটি মানুষের আত্মা আদি পাপ নিয়ে পৃথিবীতে আসে এবং কেবল যিশুখ্রিস্টকে বিশ্বাস করার মধ্য দিয়েই তারা সেই পাপ মুক্ত হয়ে স্রষ্টার সাথে পুনরায় মিলিত হওয়ার উপযুক্ত হয়। এই বিশ্বাস মতে, সকল আত্মা এক মহাবিচার দিনের মুখোমুখি হবে এবং সেদিন বিশ্বাস ও কর্মের বিচারে জান্নাত কিংবা জাহান্নামে ঠিকানা হবে তাদের।_x000D_ _x000D_ হিন্দুশাস্ত্র মতে, আত্মা বিধাতার এক অবিনশ্বর অংশ, যা পৃথিবীতে এসে নানা প্রাণের মাঝে ঘুরেফিরে চলেছে মুক্তির প্রত্যাশায়। এই বিশ্বাস মতে, প্রতিটি প্রাণ তা হোক মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী অথবা উদ্ভিদ, সকলের মাঝেই রয়েছে সর্বজনীন আত্মা এবং সেসব আত্মা নানা বেশে নানা প্রাণের মাঝে বিচরণ করে চলেছে জন্ম ও মৃত্যুর চক্রে। এই বিশ্বাস মতে, সকল জীবের আত্মা একই স্বরূপ নিয়ে গঠিত, তাই তারা ঘুরেফিরে ভ্রমণ করে চলেছে কখনো মানুষের দেহে, কখনো কোনো গাছের কাণ্ডে আবার কখনো কোনো মাছের বা অন্য কোনো প্রাণীর জীবনে।_x000D_ _x000D_ বৌদ্ধমতে, ‘আত্মা’ কোনো চির¯’ায়ী, অপরিবর্তনীয় সত্তার অস্তিত্ব নয়। বৌদ্ধ দর্শনে ‘অনাত্মা’ বা ‘নিরাত্মকতা’ ধারণায় বিশ্বাস করা হয়। এই বিশ্বাস মতে, ব্যক্তিগত সত্তা একটি সাময়িক ও পরিবর্তনশীল উপাদানের সমষ্টি যেখানে এখানে ‘অনাত্মা’ ধারণাটিই মূলভিত্তি। এর মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো ¯’ায়ী কিংবা স্বাধীন আত্মা বলে কিছু নেই, যা কোনো ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্বের কেন্দ্রে অব¯’ান করে। বৌদ্ধমতে, ব্যক্তি বা ‘আমি’ আসলে পঞ্চস্কন্ধের (রূপ, বেদনা, সংজ্ঞা, সংস্কার ও বিজ্ঞান) সমন্বয়। এই মতে সবকিছুই অনিত্য, অর্থাৎ পরিবর্তনশীল। ব্যক্তিত্ব বা অস্তিত্ব কোনো একক আত্মার ওপর নির্ভর করে না বরং, এটি কার্যকারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। এই মতে নির্বাণ হলো চূড়ান্ত মুক্তি, যেখানে লিপ্সা (তৃষ্ণা), দ্বেষ এবং মোহের সমাপ্তি ঘটে। নির্বাণ কোনো চির¯’ায়ী আত্মার অব¯’ানে পৌঁছানো নয়, বরং দুঃখের সমাপ্তি। বুদ্ধ বলেননি যে আত্মা ধ্বংস হয়; তিনি বলেছেন আত্মার অস্তিত্বই নেই। এই দর্শনে আত্মার ধারণার অনুপ¯ি’তি সত্ত্বেও নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং কর্মের ধারণা রয়েছে। এক জীবনের কর্ম অন্য জীবনের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে তা কোনো চির¯’ায়ী আত্মার মাধ্যমে নয়, বরং কারণ এবং ফলাফলের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে ঘটে। বৌদ্ধমতে, পুনর্জন্ম একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে এক জীবনের কর্ম অন্য জীবনে ফলাফল বয়ে আনে।
    No Specifications